নওগাঁর মহাদেবপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে প্রায় ৮ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিদ্দিকপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন জমির ভোগদখলকারী মোতাহার হোসেন।
মোতাহার হোসেন জানান, সিদ্দিকপুর মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি কয়েকটি দাগে প্রায় ৫ একর জমি ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি নয়জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন। মামলার শুনানি শেষে গত ১৬ আগস্ট আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীদের ওই সম্পত্তিতে বাধা প্রদান, বেদখল, হস্তান্তর, দখল পরিবর্তন কিংবা জমির প্রকৃতি ও চরিত্র পরিবর্তন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
মোতাহাতের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষের লোকজন জমির পাকা ধান কাটার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মহাদেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধান কাটার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তার দাবি, ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে প্রায় ৮ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমিতে গিয়ে ধান কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এতে তার প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মোতাহার।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিডিতে নাম থাকা বিমান সরকার। তিনি দাবি করেন, ওই দাগে তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২ দশমিক ৪১ একর জমি রয়েছে এবং দীর্ঘ ৯০ থেকে ৯৫ বছর ধরে তাদের পরিবার ওই জমি ভোগদখল করে আসছে। তিনি বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে রোপণ করা ধান পেকে যাওয়ায় তিনি তা কেটেছেন। তার ওপর আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
মহাদেবপুর থানার উপপরিদর্শক মো. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, সাধারণ ডায়েরিটির তদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।